রূপচর্চায় তিলের তেল ব্যবহার করার চল থাকলেও বাঙালি খাবারে তিলের তেলের ব্যবহার ছিল না বললেই চলে। তবে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, তিল যেমন উপকারী, তেমন তিলের তেলেরও যথেষ্ট পুষ্টিগুণ রয়েছে।

হার্টের রোগীরা কোন তেলে রান্না করবেন?
চিলি গার্লিক প্রণ হোক কিংবা কুং পাও চিকেন— পরিবেশন করার আগে সাদা তিল ছড়িয়ে দেওয়া রেওয়াজের মধ্যে পড়ে। তিলের তেল ব্যবহার করলে তবেই চিনা রান্নার স্বাদ বাড়ে। তিলের ঘরোয়া খাবার বলতে বোঝায় তিলের নাড়ু, খাজা কিংবা রেউড়ি। তবে, রূপচর্চায় তিলের তেল ব্যবহার করার চল থাকলেও বাঙালি খাবারে তিলের তেলের ব্যবহার ছিল না বললেই চলে। তবে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, তিল যেমন উপকারী, তেমন তিলের তেলেরও যথেষ্ট পুষ্টিগুণ রয়েছে। ক্যালশিয়াম, ফসফরাস-এর মতো খনিজ এবং প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টও রয়েছে তিলের মধ্যে।
তিল থেকে তৈরি তেল কী কী কাজে লাগে?
১) তিলের মধ্যে রয়েছে পলিফেনল নামক একটি উপাদান, যা আদতে একটি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং খনিজে ভরপুর এই তিল চুলের ফলিকল মজবুত করতে সাহায্য করে। অকালপক্বতা রোধেও সাহায্য করে এই তেল।
২) সাদা তিলের মধ্যে এমন যৌগ থাকে যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। শীতে এমনিতেই হৃদ্রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই কোনও মতেই কোলেস্টেরলের সমস্যা বাড়তে দিলে চলবে না এই সময়। শীতের মরসুমে ডায়েটে তিল রাখা উপকারী।
৩) শীতে জল কম খাওয়া হয়। তাই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এই সময়ে বেড়ে যায়। তিলের মধ্যে থাকা ফাইবার এই সমস্যা নির্মূল করতে পারে। এমনকি হজমের গোলমাল হলেও দারুণ কাজ করে এই তেল।
৪) তিলে ভাল মাত্রায় ফাইবার থাকে। তিলের তেল দিয়ে রান্না করা খাবার খেলে বিপাকহার বাড়ে। ডায়াবেটিকদের জন্যেও বেশ উপকারী তিল। যে কোনও মরসুমি সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকতে হয় ডায়াবেটিকদের। ফলে ডায়াবিটিস রোগীদের জন্যেও উপকারী তিলের তেল।
৫) শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। যাঁদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক, তাঁদের শীতকালে ভোগান্তি বাড়ে। এই মরসুমে ত্বকের জেল্লা ধরে রাখতেও তিলের তেল মাখতে পারেন। তিলের তেল ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে।

